
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তর থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এই হামলার পরপরই দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, আকাশপথে আসা এই হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় নাগরিকদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই হামলার ফলে পুরো ইসরায়েলজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন শহরে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয় এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতে বলা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী তেল আবিবের বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
হামলার পরপরই ইসরায়েলি পুলিশ ও বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে একই সময়ে উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় রোববার ভোরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
বাহরাইন কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরানের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তারা বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৩টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
তবে এই সংঘাতের রেশ ধরে বাহরাইনে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত সেখানে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোতেও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। এসব অঞ্চলে মোট ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতির কারণে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ও উদ্বেগ বেড়ে গেছে। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি আকাশপথে চলাচলের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।