
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে ফ্রান্স যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে প্যারিস। একইসঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে ফরাসি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহী রণতরী গ্রুপ বর্তমানে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফ্রান্সের অবস্থান আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটি কেবল প্রতিরক্ষামূলক ও সুরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে এবং সরাসরি কোনো যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনা তাদের নেই।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সচল রাখতে তিনি কয়েকটি শক্তিশালী দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান।
তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে ফ্রান্স এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। দেশটির সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই সংঘাতে সামরিকভাবে জড়াতে আগ্রহী নয়।
ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভৌথাঁ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রান্স ২৪’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালিতে ফরাসি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
তার ভাষায়, “এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ পাঠানোর প্রশ্নই আসে না। ফ্রান্স এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে না।”
তিনি আরও বলেন, ইরানকে ঘিরে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার উদ্দেশ্য ও চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
ক্যাথরিন ভৌথাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ঠিক কী উদ্দেশ্য নিয়ে এই সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তা পরিষ্কারভাবে জানা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের লক্ষ্য এক কিনা, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁও এর আগে একই ধরনের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফ্রান্স এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভৌথাঁও সেই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ফ্রান্সের দৃষ্টিতে এই সংকটের সমাধান সামরিক পথে নয়, বরং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
তার মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংঘাত আরও বাড়ার আগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত ইতোমধ্যে বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
এই অবস্থায় ফ্রান্স সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।