
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে। তাকে বহন করার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে আসা একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
জানা গেছে, সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় পৌঁছায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একই দিনে দুপুর ১২টার দিকে বিমানটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্যই তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত হাসপাতালে তার চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই সফরে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এবং বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তার সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় তার শারীরিক অবস্থায় জটিলতা ধরা পড়ে বলে জানা যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শুক্রবার তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে শনিবার সকালে আবারও তার সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সেই পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল।
তবে চিকিৎসকরা মনে করেন, তার সুস্থতার জন্য আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। সেই কারণে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করেই তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার পরবর্তী চিকিৎসা চলবে।
মির্জা আব্বাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার অসুস্থতার খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।