
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ব্রেন্ডন কার গণমাধ্যমকে সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনে গুজব বা বিকৃত তথ্য প্রচার করা হলে সম্প্রচার লাইসেন্স ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ সংক্রান্ত সংবাদ কভারেজ পছন্দ না করলে গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্রেন্ডন কার এই সতর্কবার্তা দেন। সেখানে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি। গণমাধ্যমকে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তথ্য প্রচার করতে হবে এবং গুজব বা বিকৃত খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব সম্প্রচারমাধ্যম ইতোমধ্যে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে, তাদের সামনে এখনো নিজেদের সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। লাইসেন্স নবায়নের আগে তারা যেন সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে—এমন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
তবে এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের মতে, সংবাদ পরিবেশনের কারণে সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই মন্তব্যকে ‘স্পষ্টতই সংবিধানবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেয় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
অনেক ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক এবং নাগরিক অধিকারকর্মীও এই সতর্কবার্তাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, সংবাদ পরিবেশনের ধরন নিয়ে সরকারি চাপ সৃষ্টি করা হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বার্তা এমন একটি ধারণা দেয় যে যদি কোনো সংবাদমাধ্যম যুদ্ধ নিয়ে ইতিবাচক কভারেজ না দেয়, তাহলে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স নবায়ন নাও হতে পারে।
তার ভাষায়, এই ধরনের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমকে নির্দেশনা দেওয়ার মতো, কীভাবে যুদ্ধের খবর প্রকাশ করতে হবে। ফলে এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।
এদিকে ব্রেন্ডন কারের এই বক্তব্য নতুন নয় বলেও সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন। এর আগেও তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন।
গত বছর কমেডিয়ান জিমি কিমেলের একটি অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করা হলে ব্রেন্ডন কার এবিসি চ্যানেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেই ঘটনাও গণমাধ্যমের ওপর প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক মন্তব্যটি সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো সংবেদনশীল সময়ে সংবাদ পরিবেশন নিয়ে সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক অনেক সময় উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তথ্য প্রকাশের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই এই ধরনের সতর্কবার্তা রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।