
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় একটি কলেজের নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষার খাতা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উপজেলা যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় এক নেতাসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম শরীফুল ইসলাম শরীফ। তিনি হরিপুর উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার যাদুরানী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
পরীক্ষা চলাকালে একদল ব্যক্তি হঠাৎ করে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ওই সময় তারা জোরপূর্বক পরীক্ষার খাতা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে পরীক্ষাকেন্দ্রে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়োগ পরীক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হয়।
তদন্তের ভিত্তিতে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শরীফুল ইসলাম শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শরীফ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, একটি নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার সময় এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মনে করছেন অনেকেই। প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।