
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা সম্প্রতি বিএনপিকে নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার সেই মন্তব্যটি মূলত ‘স্লিপ অব টাং’ বা কথার ভুল ছিল। বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি একটি বিষয় বোঝাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মুখ থেকে ভিন্নভাবে কথা বের হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল রানাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিএনপিকে নিয়ে একটি বক্তব্য দেওয়ার পর তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। সেই বক্তব্যে হানজালাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এ দেশে থাকতে পারবে না।’ এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হানজালা বলেন, তিনি যে কথাটি বলেছিলেন সেটি আসলে ভুলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তার ভাষায়, ওই বক্তব্যটি ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে। কারণ তখন তার মাথায় একটি কথা ছিল, কিন্তু মুখ থেকে বের হয়েছে অন্যভাবে।
তিনি বলেন, মূলত তার বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল শিবচর এলাকায় কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে। তার দাবি, সেখানে কিছু লোক বিএনপির নাম ব্যবহার করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছে এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে।
হানজালা বলেন, যারা বিএনপির নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহনে চাঁদাবাজি বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—তাদের বিরুদ্ধেই তার বক্তব্য ছিল। তিনি মনে করেন, এসব কর্মকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক দলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করবেন না। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে তিনি বুঝেছেন যে অবৈধ বালু উত্তোলন বা চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড অনুমোদিত হবে না।
তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে বিএনপির কোনো সংঘর্ষ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। দীর্ঘদিন ধরে শিবচরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হানজালা জানান, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর শিবচর এলাকায় কোনো ধরনের সংঘাত বা উত্তেজনা সৃষ্টি হতে দেননি। তার মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বা পরে তিনি কোনো রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেননি। বরং সব দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।
এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে শিবচরের বাহাদুরপুর মাঠে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় হানজালা ওই মন্তব্য করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কিছু লোক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে লেখালেখি করছেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।
তিনি তখন বলেন, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর তার নেতাকর্মীরা কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি কিংবা কাউকে হুমকি দেননি। তার মতে, তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চান এবং এলাকায় নতুন ধরনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান।
হানজালা বলেন, তিনি শিবচরে প্রতিহিংসা বা আধিপত্যের রাজনীতি দেখতে চান না। বরং সব রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এলাকার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেন। এজন্য সব দলের নেতাকর্মীদের প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শিবচরের উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মতপার্থক্য থাকলেও সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার অগ্রগতি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
বিএনপিকে নিয়ে তার বক্তব্য ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য ছিল না। বরং কিছু ব্যক্তির অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তুলে ধরতেই তিনি কথা বলেছিলেন।