
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আহত হওয়া আরেক যুবকের মৃত্যু হয়েছে দীর্ঘ তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর। নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ওরফে রিয়াদ (২৫)। তিনি আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান গ্রামের বাড়িতে মারা যান।
স্বজনরা জানান, কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাইফুদ্দিনকে বাড়িতে আনা হয়। এরপর বাড়িতে থেকেই হাসপাতালে নেওয়া–আসার মধ্য দিয়ে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
নিহত সাইফুদ্দিন আবদুল মজিদের ছেলে এবং যুবদলের কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলমের নিকটাত্মীয়। গত বছরের ২৫ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজানের চারাবটতল বাজারসংলগ্ন কায়কোবাদ জামে মসজিদের সামনে একদল অস্ত্রধারী আলমগীর আলমকে গুলি করে হত্যা করে। ওই সময় মোটরসাইকেলের পেছনের আসনে থাকা সাইফুদ্দিন পিঠে একাধিক গুলিবিদ্ধ হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা তিন মাস ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ২৫ অক্টোবরের ওই হামলায় আলমগীর আলম ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং তাঁর আত্মীয় সাইফুদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর আজ তিনি মারা গেছেন। তিনি জানান, এলাকায় সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজান উপজেলায় রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ২০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৪টি সরাসরি রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত। একই সময়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত শতাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ ৩৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আলমগীর আলম হত্যার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও তাঁদের কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত অস্ত্রধারীদের এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।