
লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, শুধু সিল উদ্ধার হওয়াই নয়—এর সঙ্গে ব্যালট পেপারের সফট কপি কোনোভাবে হাতছাড়া হয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ভোট কারচুপি রোধে নাগরিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) আয়োজিত এই বৈঠকে জাহেদ উর রহমান বলেন, ভোটের সিল পাওয়া মানে সেটি ব্যবহারযোগ্য ব্যালটও সহজেই তৈরি করা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, “এটা অত্যন্ত অ্যালার্মিং। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন ঘটনা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাও হতে পারে। বরং ভোটের ফলাফল নির্দিষ্ট দিকে প্রভাবিত করার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশও হতে পারে। স্থানীয় কোনো ব্যক্তি না কি সংগঠিত চক্র—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। অতীতে নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় থাকার প্রবণতাই স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। বর্তমান নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আস্থার সংকট কাটেনি বলে তিনি মনে করেন।
এই গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর, যিনি বলেন, আগে শঙ্কা ছিল নির্বাচন হবে কি না, এখন শঙ্কা—নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কি না। তিনি নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য ভূমিকার ওপর জোর দেন।
লক্ষ্মীপুরে অবৈধ সিল উদ্ধারের ঘটনায় গত মঙ্গলবার একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, অতিরিক্ত ভোটার স্থানান্তর, ভোট গণনায় বিলম্ব এবং ভুঁইফোড় পর্যবেক্ষক নিয়োগের মতো অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এসব অনিয়ম নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত বিশ্লেষক ও নাগরিক প্রতিনিধিরা একমত হন যে, নির্বাচন কমিশনকে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য—উভয় ধরনের কারচুপি প্রতিরোধে আরও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।