
দলীয় ভালোবাসা আর রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা থেকে নিজের মুদির দোকানকেই ধানের শীষের নির্বাচনী অফিসে রূপান্তর করেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ আলী। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইউসুফ আলী নিজের মুদির দোকানের মালামাল সরিয়ে সেখানে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফৌজুল আমিন চৌধুরীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫ সালে স্কুলে পড়ালেখার সময় থেকেই ইউসুফ আলী বিএনপির রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত হন। খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কলেজ জীবনে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেছেন, কিন্তু কখনো রাজনৈতিক পদ-পদবির প্রতি আগ্রহ দেখাননি।
গত ১১ বছর ধরে বোয়ালিয়া মোড়ে একটি ছোট মুদির দোকান করে স্ত্রী ও সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার চালাচ্ছেন ইউসুফ আলী। সেই দোকানই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই আয়ের জায়গাটিই সাময়িকভাবে ছেড়ে দিয়ে ধানের শীষের অফিসে রূপ দিয়েছেন তিনি।
ইউসুফ আলী বলেন, “বিএনপি বলতে আমি জিয়া পরিবার আর ধানের শীষকে বুঝি। আমার পরিবারের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় ভালোবাসা জিয়া পরিবার। বিএনপি করার কারণে আমাকে ২০১২ ও ২০২৩ সালে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো আমার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। জেলে থাকার সময় পরিবার কষ্টে ছিল। এবার দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নির্বাচনে যদি এক সপ্তাহ কষ্ট হয়, সেটাও মেনে নেব।”
আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফৌজুল আমিন চৌধুরী বলেন, ইউসুফ আলী নিঃস্বার্থভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনো পদ-পদবির লোভ তাকে স্পর্শ করেনি। দুঃসময়ে জিয়া পরিবারের পক্ষে এলাকায় প্রচারণা চালাতে গিয়ে তিনি একাধিকবার জেল খেটেছেন। তার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
স্থানীয়দের মতে, ইউসুফ আলীর এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে ত্যাগ ও আদর্শের একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।