
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারে বাধা, ব্যানার অপসারণ এবং পরিকল্পিত হয়রানির অভিযোগ তুলেছে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)। দলটির অভিযোগ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকেরা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নে জিওপি প্রার্থী ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দিনের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এতে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ সাইফুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন যুব অধিকার পরিষদ কুমিল্লা উত্তর জেলার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জসীম উদ্দিনের নির্বাচন প্রস্তাবকারী রাসেল হোসেন বেগ। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার সময় তাদের ধারাবাহিকভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, জসীম উদ্দিনের নিজ গ্রাম এলাহাবাদের এলাহাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে ট্রাক প্রতীকের একটি ব্যানার টানানো ছিল। অভিযোগ করা হয়, এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকেরা ওই ব্যানার খুলে সেখানে শাপলা প্রতীকের একটি বিলবোর্ড স্থাপন করেন। এ ছাড়া প্রচার মাইকযুক্ত গাড়ি ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করলে ব্যানার খুলে ফেলা হয় এবং প্রতিবাদ জানালে হুমকি দিয়ে সরে যেতে বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রাসেল হোসেন আরও বলেন, গত মঙ্গলবার এলাহাবাদ থেকে জাফরগঞ্জ সড়কে স্থাপিত পাঁচটি নির্বাচনী ব্যানার খুলে নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হাসনাত আবদুল্লাহর নিজ ইউনিয়নের খাইয়ার গ্রামে একটি পলিয়েস্টার কাপড়ের ব্যানারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বক্তাদের দাবি, আগুন লাগানোর পরপরই স্বল্প সময়ের মধ্যে ভিডিও ধারণ করা হলেও আগুন দেওয়ার মুহূর্তের কোনো দৃশ্য ধারণ করা হয়নি, যা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। একই ধরনের ঘটনা হারসসার গ্রামেও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
গণঅধিকার পরিষদের নেতারা দাবি করেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনের কাছে একটি তালিকা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও পরে ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করে। আদালতে আপিল করেও তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাননি।