
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি থামেনি। সর্বশেষ হামলাগুলোতে অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটির তুফাহ ও জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে অন্তত ১৪ জন নিহত হন। একই সময়ে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া একটি তাঁবুতে চালানো হামলায় আরও চারজন প্রাণ হারান।
এ ছাড়া আল-মাওয়াসি উপকূলীয় তাঁবু ক্যাম্পে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, নিহতদের একজন জরুরি সেবাকর্মী হুসেইন হাসান হুসেইন আল-সুমাইরি, যিনি আহতদের সহায়তায় নিয়োজিত ছিলেন।
খান ইউনিস থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম জানান, গাজা সিটির একাধিক আবাসিক ভবনে কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও এসব হামলার কারণে গাজার সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় গাজাজুড়ে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আকাশে ড্রোনের উপস্থিতি ও শব্দ নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর গাজায় তাদের সাঁজোয়া ইউনিট ও যুদ্ধবিমান ‘রুটিন অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে হামলা চালিয়েছে। এ সময় এক রিজার্ভ সেনা কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সীমারেখার কাছে ঘটে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল পূর্ব গাজার দিকে ‘ইয়েলো লাইন’-এর অবস্থান পরিবর্তন করছে, যা সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।