
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমি এমপি হই বা না হই, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।”
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাদের নগরে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নিজস্ব অডিটোরিয়ামে নতুন প্রজন্মের তরুণদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও খেলোয়াড়রা অংশ নেন।
হুম্মাম কাদের বলেন, “এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন, তারাই আগামীর বাংলাদেশ। আপনাদের মাধ্যমেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। আগামীর রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলতে আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি উন্নয়নের ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে তিনি এমন উন্নয়ন দেখেছেন, যেখানে একজন এমপির বাড়িতে যাওয়ার সুবিধার জন্য সাড়ে চার কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আরেক ইউনিয়নে বেহাল সড়কের কারণে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। “আমি এমন একপেশে উন্নয়ন চাই না। আমি চাই রাঙ্গুনিয়ার সার্বিক ও ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন,”—বলেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত আগ্রহের কথা উল্লেখ করে হুম্মাম কাদের বলেন, ছোটবেলা থেকেই প্রাণীদের প্রতি তার বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে। সে কারণে রাঙ্গুনিয়ায় একটি ইকোপার্ক গড়ে তুলতে চান তিনি। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাকে যেভাবে আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল, প্রাণীদেরও অনেকটা সেভাবেই রাখা হয়েছে। আমি এটি পরিবর্তন করতে চাই। চিড়িয়াখানাকে সাফারি পার্কে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
প্রশ্নোত্তর পর্বে রাঙামাটি সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী সায়মা বিনতে সৈয়দ জানতে চান, এমপি হলে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বছরে একবার পরিদর্শন করবেন কি না। জবাবে হুম্মাম কাদের বলেন, বছরে একবার পরিদর্শন করলে তিনি আগের এমপিদের মতো হয়ে যাবেন। তিনি নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার অঙ্গীকার করেন।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হামিদুল ইসলাম রাকিব ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা নিয়ে প্রশ্ন করলে হুম্মাম কাদের বলেন, তারেক রহমান ইতোমধ্যেই তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সম্মানজনকভাবে চলার মতো বেতন-ভাতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি এমপি হই বা না হই, এই ঘোষণা বাস্তবায়নে কাজ করব, যাতে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।”
সহস্রাধিক তরুণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়। সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির কাছে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। হুম্মাম কাদেরও তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আগামীর রাঙ্গুনিয়া গড়ার নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।