
ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, দেশে যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমুক্ত ভূমিকা পালন করে, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করবে। সেই ক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “আজ তারেক রহমান ফরিদপুরে জনসভায় অংশ নিয়েছেন। সেখানে তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।” তিনি জানান, তারেক রহমান ফরিদপুর বিভাগ গঠন এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, এসব উন্নয়ন বাস্তবায়নের জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে হবে। জনগণের ভোটেই বিএনপি ক্ষমতায় যাবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, যুব সমাজকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবতে হবে। একটি আধুনিক ও উন্নয়নশীল সালথা উপজেলা গড়ে তুলতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ও অবকাঠামো তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমি যদি নির্বাচিত হই এবং বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে আধুনিক মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণ করা হবে। ছাত্র ও যুব সমাজের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ক্রীড়া সেন্টার চালু করা হবে, যাতে তারা সুস্থ ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে পারে।”
নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, তার বাবা মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমান সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনীতি করে গেছেন। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই তিনি সালথা ও নগরকান্দাকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
তিনি কঠোর কণ্ঠে বলেন, এই এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা টেন্ডারবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বিএনপি শক্ত অবস্থান নেবে।
উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, মনিরুজ্জামান মোল্যা, মজিবর সরদার, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।