
খুলনা-১ (দাকোপ–বটিয়াঘাটা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক নারী কর্মী আহত হয়ে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে দাকোপ থানা ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
অভিযোগের পর বুধবার দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়ন ও চালনা পৌরসভা এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভ থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দাকোপ উপজেলা শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলটির মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু সাইদের হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ চলাকালে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দাকোপ উপজেলার লক্ষ্মীখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ১২ থেকে ১৩ জন নারী কর্মী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নারী কর্মীরা একটি বাড়িতে ঢোকার পর তাঁদের সেখানে আটকে রেখে গালিগালাজ করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন নারী আহত হন। গুরুতর আহত রোজিনা বেগমকে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
বুধবার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, রোজিনা বেগম সেখানে চিকিৎসাধীন। তাঁর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের আরও কয়েকজন নারী কর্মী অবস্থান করছিলেন। হাসপাতালের ভর্তির খাতায় আঘাতের ধরন হিসেবে ‘ফিজিক্যাল অ্যাসাল্ট’ লেখা রয়েছে।
রোজিনা বেগম বলেন, তাঁরা মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ইলিয়াস হোসাইনের বাড়িতে গিয়ে হাতপাখা প্রতীকের কথা বললে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা নিজেদের দাঁড়িপাল্লার সমর্থক দাবি করেন। এরপর ১১ জন নারী কর্মীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ওড়না ও বোরকা খুলে ফেলা হয়। পরে থানায় যাওয়ার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
আরেক নারী কর্মী হাফসা বেগম বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁরা এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার ছয়জন পুরুষ তাঁদের হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবু সাইদের বাবা মো. আলী হায়দার শেখ বলেন, অভিযুক্ত ইলিয়াস হোসাইন আগে ইসলামী আন্দোলনের দাকোপ উপজেলা সভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে পদ থেকে সরানো হয়। পরে তিনি দল ছেড়ে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইলিয়াস হোসাইন। তিনি বলেন, ঘটনাটি সাজানো। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে নারী কর্মীদের তাঁর বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। তর্ক-বিতর্ক হলেও মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নন এবং জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে দাকোপ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রকাশ বোস বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।