
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৬ অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট অথবা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারণা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ২২-এর উপবিধি (২) অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য যে কোনো ধরনের কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং বা স্পন্সরশিপ বাবদ যে ব্যয় হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মোট নির্বাচনী ব্যয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। এসব ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে।
নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার জন্য ব্যয়িত অর্থ নির্বাচনকালীন ব্যয়ের বাইরে রাখা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী সব ব্যয় হিসাব রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হবে।
এমতাবস্থায়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় উল্লিখিত সব বিষয় যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় পাঠাতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ন্ত্রণে এই নির্দেশনা গুজব, বিভ্রান্তি ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি একটি সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তারা।