
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী অঞ্চলে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি একদিনে একাধিক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নওগাঁর এটিম মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজশাহী অঞ্চল সফর শুরু করবেন জামায়াত আমির। ওই জনসভায় প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়া হবে।
নওগাঁর জনসভা শেষে জামায়াত আমির ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। এরপর দুপুর আড়াইটায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ডা. শফিকুর রহমান।
ওই জনসভা শেষে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বৃহৎ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন জামায়াত আমির।
মাদ্রাসা ময়দানের জনসভা শেষে রাজশাহীর বাকি পাঁচটি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতেও আনুষ্ঠানিকভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেবেন তিনি। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নাটোরে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে জামায়াত আমিরের।
রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, দেশব্যাপী ধারাবাহিক নির্বাচনী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার জামায়াত আমির ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের চারটি জনসভায় অংশ নেবেন। জনসভাগুলোতে তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং জনদাবি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করবেন।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল জানান, ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের জনসভায় রাজশাহীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবেন। তিনি দাবি করেন, এ জনসভায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার নারী কর্মী-সমর্থকসহ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হতে পারে।
এদিকে জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের জনসভাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।