
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাপনায় নতুন নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পোস্টাল ভোট গ্রহণ ও প্রেরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ সংক্রান্ত একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি’ জারি করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের বিডি অ্যাপের মাধ্যমে প্রকাশিত এ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর ক্ষেত্রে ভোটারদের অবশ্যই বাংলাদেশ ডাক বিভাগের নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে। ডাক বিভাগের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করা হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি পোস্টাল ব্যালটের সঙ্গে একটি ইউনিক কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। এই কিউআর কোডের মাধ্যমে ব্যালটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে ব্যালট কোথা থেকে কখন পাঠানো হয়েছে এবং কখন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে—তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ডাক বিভাগের নির্ধারিত চ্যানেল ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে পাঠানো ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করবেন না। এ ধরনের ব্যালট সরাসরি বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ভোটের সুবিধা মূলত তিন শ্রেণির ভোটারের জন্য প্রযোজ্য। তারা হলেন— সরকারি চাকরিজীবী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দি কয়েদিরা। পাশাপাশি, প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার নাগরিক পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন ট্র্যাকিং ও কিউআর কোড ব্যবস্থা পোস্টাল ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়াবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যেসব পোস্টাল ব্যালট তাদের কার্যালয়ে পৌঁছাবে, সেগুলো ভোট গণনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্ধারিত সময়সীমার পরে পৌঁছানো কোনো পোস্টাল ব্যালট গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তা বাতিল বলে বিবেচিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ পোস্টাল ভোট ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভোটারদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে ব্যালট পাঠানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।