
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তবতায় শহরগুলোকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাখতে নতুন সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা। এতে শহরকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়, যেন তা স্পঞ্জের মতো বৃষ্টির পানি শুষে নিতে পারে এবং ধীরে ধীরে সেই পানি নদী, খাল ও জলাধারে প্রবাহিত হয়। ফলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়।
স্পঞ্জ সিটির ধারণাটি প্রথম দেন চীনের খ্যাতনামা ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি কংজিয়ান ইউ। গ্রামীণ চীনে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, প্রাকৃতিক জলধারা, গাছপালা ও খোলা জমি কীভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিয়ন্ত্রণ করে। আধুনিক শহরে অতিরিক্ত কংক্রিট ও ড্রেননির্ভর অবকাঠামো সেই প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এর বিকল্প হিসেবে তিনি স্পঞ্জ সিটির ধারণা তুলে ধরেন, যা ২০১৪ সালে চীনের নগর উন্নয়ন নীতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
স্পঞ্জ সিটি কেবল পাইপ বা ড্রেনের ওপর নির্ভরশীল নয়। এতে পার্ক, খোলা মাঠ ও জলাশয়ের পরিমাণ বাড়ানো হয়। পানি পার হতে পারে এমন রাস্তা ও চত্বর তৈরি করা হয়। ছাদবাগান, রেইন গার্ডেন, জলধারণকারী পার্ক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ টানেল ও জলাধার নির্মাণ করা হয়। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিবৃষ্টির পানি জমে না থেকে ধীরে ধীরে মাটিতে শোষিত হয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট প্রাকৃতিক দুর্যোগের ৪০ শতাংশের বেশি বন্যাসংশ্লিষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছ, ঘাস ও জলাশয়ভিত্তিক সমাধান কংক্রিটনির্ভর অবকাঠামোর তুলনায় কম খরচে বেশি কার্যকর।
বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪৪০ কোটি মানুষ শহরে বসবাস করছে। ফলে ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় পানি ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। চীনের সাংহাই থেকে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহর ইতোমধ্যে স্পঞ্জ সিটির আদলে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
দুবাই মিউনিসিপ্যালিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পঞ্জ সিটি মডেলে সবুজ ছাদ, পানি পার হতে পারে এমন রাস্তা এবং ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। শেনঝেনকে এই মডেলের সফল উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।
শেনঝেন আরবান প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ইউ লু বলেন, শেনঝেন ও দুবাই—উভয় শহরই দ্রুত উন্নয়নশীল ও উদ্ভাবনমুখী। এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে দুই শহরের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।