
লিওনেল মেসি কি আবার ইউরোপীয় ফুটবলে ফিরছেন? তাও আবার তুরস্কের লিগে? এমনই চমকপ্রদ এক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিজেকে পুরোপুরি ফিট রাখতে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে ইউরোপে ফেরার কথা ভাবছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা—এমন দাবি উঠেছে তুরস্কের ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একাংশের কাছ থেকে।
তুরস্কের পরিচিত ফুটবল বিশ্লেষক লেভেন্ট তুজেমান দাবি করেছেন, সুপার লিগের জায়ান্ট ক্লাব গালাতাসারাইয়ের সঙ্গে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি চার মাসের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে খেলতে আগ্রহী হতে পারেন, যেখানে মোট ম্যাচের সংখ্যা হতে পারে ১২টি।
তবে এই সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী শর্ত। তুজেমানের দাবি অনুযায়ী, মেসি কেবল গালাতাসারাইয়ের ঘরের মাঠ—ইস্তাম্বুলের র্যামস পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতেই খেলতে চান। কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচে অংশ নেওয়ার আগ্রহ নেই তার। বিশ্বকাপের আগে অতিরিক্ত ভ্রমণ, চাপ ও চোটের ঝুঁকি এড়াতেই এমন শর্ত দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ-স্পোর চ্যানেলের এক লাইভ অনুষ্ঠানে কায়সারিসপোরের বিপক্ষে গালাতাসারাইয়ের ৪–০ গোলের জয়ের পর এই মন্তব্য করেন তুজেমান। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএসে খেলার ধরন ও গতি মেসির জন্য এখন তুলনামূলকভাবে ‘ভারী’ হয়ে উঠছে, যা বিশ্বকাপ প্রস্তুতির পথে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-হিলাল থেকেও প্রস্তাব পেয়েছিলেন মেসি, তবে সেটি গ্রহণ করেননি। তার লক্ষ্য অর্থ নয়, বরং ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেকে আরও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে রাখা।
যদিও এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসি বা গালাতাসারাই ক্লাব—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেনি। ফলে বিষয়টি পুরোপুরি গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে। তবে তুর্কি কাপের ফাইনালে গালাতাসারাই উঠলে, সেখানেও মেসির খেলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন তুজেমান।
এর আগে মেসি নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি যেন আর্জেন্টিনা দলের জন্য ‘বোঝা’ হয়ে না যান, সেটিই তার সবচেয়ে বড় চিন্তা। এমএলএসের মৌসুম কাঠামো এবং প্রতিযোগিতার মাত্রা নিয়েও তার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে।
সব মিলিয়ে, মেসির তুরস্কে যোগ দেওয়ার এই আলোচনা এখনো নিশ্চিত কোনো খবর নয়। তবে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে যে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।