
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় একটি হাওর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনে পোড়ানোর চিহ্ন রয়েছে এবং গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ঘটনাটিকে রহস্যজনক করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরি ও বিলপার এলাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত কোনারবন্দ হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাওরের ভেতরে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, মরদেহটির শরীরের একাধিক অংশ আগুনে পোড়ানো এবং গলায় রশি প্যাঁচানো রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের পাশ থেকে একটি লবণের প্যাকেট উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত এই আলামত ঘটনাটির প্রকৃতি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি একজন মধ্যবয়সী পুরুষ। এখন পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহে আঘাতের ধরন ও পোড়ার চিহ্ন দেখে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, “মরদেহের শরীরে পোড়ার চিহ্ন ও গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহের পরিচয় শনাক্তের জন্য আশপাশের থানা ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।