
মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠানটির অফিসে অভিযান চালিয়েছে প্যারিসের প্রসিকিউটর কার্যালয়। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, এক্সের অ্যালগরিদম কীভাবে কনটেন্ট সুপারিশ করছে এবং তা কোনোভাবে আইন লঙ্ঘন করছে কি না—সে বিষয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্তের আওতায় প্ল্যাটফর্মটির প্রযুক্তিগত কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রসিকিউটর অফিস আরও জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে এক্সের মালিক ইলন মাস্ক এবং প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিন্ডা ইয়াকারিনোকে আগামী এপ্রিল মাসে শুনানিতে হাজির হতে তলব করা হয়েছে। তবে শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত এক্স কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে প্রতিষ্ঠানটি এই তদন্তকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এক্সের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।
প্রসিকিউটর অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাওয়া দুই ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতেই এই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগকারীদের একজন ফ্রান্সের একজন সংসদ সদস্য এবং অন্যজন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এই দুই ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এক্সের অ্যালগরিদম বিদেশি হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কী ধরনের হস্তক্ষেপ হয়েছে কিংবা অ্যালগরিদম কীভাবে কাজে লাগানো হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তারা প্রকাশ করেননি।
তদন্ত সম্প্রসারণের পর এক্স কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করে এবং অ্যালগরিদমে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা সবসময় ইউরোপীয় আইন ও নীতিমালা মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্যারিস প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে একাধিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয় খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে এক্স-এর বিরুদ্ধে ফরাসি কর্তৃপক্ষের অভিযান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।