
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, নতুন এই বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রে সব ধরনের শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বড় ও ন্যায্য’ বাণিজ্যিক অর্জন।
ট্রাম্প আরও জানান, ফোনালাপে বাণিজ্যের পাশাপাশি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন। এর পরিবর্তে ভারত যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক জরিমানা প্রত্যাহার করা হবে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, নতুন এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ভারত আগামী কয়েক বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও কয়লা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি শুধু দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কই জোরদার করবে না, বরং বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সমঝোতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি এবং বৃহত্তম গণতন্ত্র যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন তা উভয় দেশের জনগণের জন্যই সুফল বয়ে আনে। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বাণিজ্য চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
নতুন এই সমঝোতাকে সেই উত্তেজনা প্রশমনের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।