
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দল থেকে পঞ্চগড়-১ সংসদীয় আসনের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, নতুন বাংলাদেশে কাউকে প্রশ্নের বাইরে রাখা হবে না এবং কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
সোমবার রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের ফুলবাড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন ঋণখেলাপি। তার দাবি অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করে সম্মিলিতভাবে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি বলেন, এই অর্থ জনগণের টাকা এবং বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা এখনো সংসদ সদস্য হননি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাননি, তারা যদি ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই এ পরিমাণ অর্থ লুটপাট করেন, তাহলে নির্বাচনের পর তাদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে—সে প্রশ্ন জনগণের সামনে রেখে দেন তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দিতে গিয়ে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, চার দিন আগে শেরপুরে উপজেলা জামায়াতের এক নেতাকে বিএনপির কর্মীরা প্রকাশ্যে হত্যা করেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, গত দেড় বছরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুই শতাধিক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে এসেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান—নিজেদের দলে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।
তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিহিংসার নয়, বরং জনগণের কল্যাণে কাজ করার। কাউকে আক্রমণ বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না বলেও জানান তিনি। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এই আসনে কেউ যদি ধানের শীষে ভোট দেন এবং শাপলাকলি প্রতীক বিজয়ী হয়, তবুও আগামী পাঁচ বছরে কেউ তাদের দ্বারা অন্যায়ের শিকার হবেন না।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার দলের কোনো নেতাকর্মী যদি কারও সঙ্গে অসদাচরণ করেন, সে ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।