
ভোলায় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ফাবিহা আক্তার (১৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুর করেন। সোমবার বিকেলে ভোলা সদর রোডে অবস্থিত হাবিব ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে প্রসব বেদনা শুরু হলে ফাবিহা আক্তারকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত পলি নামের এক নার্স স্বাভাবিক প্রসবের উদ্দেশ্যে তাকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শরীর কালো হয়ে যায়। কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান বলে অভিযোগ করা হয়।
প্রসূতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ক্লিনিকে হামলা চালান এবং ভাঙচুর করেন। এ সময় সঠিক বিচারের দাবিতে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্লিনিকের মালিকসহ দায়িত্বরত কর্মচারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভোলা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজে ক্লিনিক পরিদর্শনে গেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব হওয়ার কথা ছিল। ইনজেকশন দেওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ গ্রহণ করা হবে এবং পুলিশও পৃথকভাবে অভিযোগ নেবে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা গ্রহণ করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কেউ উপস্থিত না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।