
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশকে আর দুর্নীতিবাজদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “কয়েকজন আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে। লেগে লাভ হবে না, নিজেরাই ফেঁসে যাবে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলেই তারা আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”
নারীদের সম্মান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “মায়েরা আমাদের মাথার তাজ। সমাজ ও রাষ্ট্রে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ডাকসু দিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা জকসুতে এসে থেমেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস সৃষ্টি হবে।” তবে এ বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবার নির্বাচনে বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, “যারা ১৩ তারিখ থেকে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান, তারা ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনবেন।”
তিনি দাবি করেন, ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণে জামায়াতে ইসলামী এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে কাজ করছে। “আমরা ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের সবকিছু ন্যায্যভাবে বণ্টন করতে পারব”—এমন প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, জামায়াত মনোনীত চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন মনির, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম এবং উত্তর জেলা শ্রমিক সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বকর।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন সনাতন প্রতিনিধি দোলন দেব, কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়ক মো. ইব্রাহিম, ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি প্রমুখ।