
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হবে। দলীয় সূত্র জানায়, এটি হবে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীের সহকারী সেক্রেটারি এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, জনগণের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়েই এবারের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, ৩ ফেব্রুয়ারি ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। তবে পরবর্তীতে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তারিখ একদিন পিছিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত নতুন তারিখেই এখন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ার আরও জানান, এবারের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়াবে বলে মনে করছে দলটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি দমন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়েও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হতে পারে।
ইশতেহার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর এই ইশতেহার তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করতে সহায়ক হবে।
সব মিলিয়ে, ৪ ফেব্রুয়ারির এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়তি নজর তৈরি হয়েছে এবং ইশতেহারের বিষয়বস্তু নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা যাচ্ছে।