
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকে সরে যাওয়ায় রাজনৈতিক সহযোগীদের সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত কুমিল্লা-৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ) আসনের প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করীম বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক সহযোগীরা শরিয়া আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার থেকে সরে এসে প্রচলিত ব্যবস্থায় চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আদর্শিক অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, দেশের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু গত ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তারা দেশকে একাধিকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে এবং মেহনতি মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে তথাকথিত ‘বেগম পাড়া’ গড়ে তুলেছে।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, এসব বাস্তবতার কারণে এখন দেশে ইসলামের পক্ষে কার্যকরভাবে কথা বলার জন্য একটিই ভোটবাক্স রয়েছে, আর তা হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সমাবেশ শেষে তিনি ওই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী সেলিম মাহমুদের হাতে হাতপাখা প্রতীক তুলে দেন এবং ভোটারদের পবিত্র আমানত সঠিক জায়গায় ব্যবহারের আহ্বান জানান।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইমরান হোসাইন নূর, কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মাওলানা মোরশেদুল আলম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নেসার উদ্দিন সুমনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।