
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একসময় যারা মুখ লুকিয়ে ছিলেন এবং কোনো কথা বলতেন না, তারা এখন বাধ্য হয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন। তবে তিনি বলেন, জামায়াত চায়—মানুষের মুখের কথাই যেন তাদের বুকের কথার সঙ্গে মিলে যায়।
সোমবার কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, যারা ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেবেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষ ধরে নেবে তারা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায় এবং পরিবারকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দলীয় বিজয় চায় না; তারা চায় দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। কারণ জনগণের বিজয় হলেই সবার কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
যুবসমাজের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তরুণরা বেকার ভাতা চায় না; তারা কাজ চায়। তাদের হাতে অপমানজনক কোনো ভাতা নয়, বরং সম্মানের কাজ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহেশখালী–কুতুবদিয়া অঞ্চল মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে বিশাল সম্ভাবনার জায়গা, যা কাজে লাগাতে পারলে এই অঞ্চল সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও এগিয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতদের নেতৃত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। তার ভাষায়, যাদের চরিত্রবল, সততা ও দেশপ্রেম রয়েছে এবং যারা মানুষের সুখে–দুঃখে পাশে থাকে—বাংলাদেশ গড়া হবে তাদের দিয়েই।
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণেরও বেশি। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ জনগণের টাকা এবং তা লুণ্ঠনকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা হবে। এরপর ইনসাফের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়ন হবে এবং আর কোনো বৈষম্য বা অবিচার হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।