
দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হাতে সময় মাত্র কয়েক দিন। এমন পরিস্থিতিতে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্তত ৬০ থেকে ৬৫ জন প্রার্থী এখনো মাঠে সক্রিয় থাকায় হাইকমান্ড কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সরে না দাঁড়ালে সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী প্রার্থীদের চিরতরে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে তাঁদের দলে ফেরার কোনো সুযোগ থাকবে না। তৃণমূল পর্যায়ে ইতোমধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্রোহী অনেক প্রার্থী অবশ্য দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁদের শর্ত—বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান যেন ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে নির্দেশ দেন। কিন্তু দলীয় হাইকমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান বর্তমানে সারা দেশে নির্বাচনী সমন্বয় ও প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ব্যক্তিগতভাবে কাউকে ফোন করার সুযোগ তাঁর নেই এবং তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেন, দলের পক্ষ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। যারা এখনো মাঠে রয়েছেন, তাঁরাও শিগগিরই সরে দাঁড়াবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, কৌশলগত কারণে কিছু আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর চাপ দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে যেসব আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীকে ঠেকানো বিএনপির প্রধান লক্ষ্য, সেখানে কিছু ‘হেভিওয়েট’ বিদ্রোহী প্রার্থীকে নীরব ছাড় দেওয়া হতে পারে। তবে যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ধানের শীষের প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সেখানে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
ইতোমধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় এক দফায় ৫৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে মনিটরিং চলছে—কে বা কারা বিদ্রোহীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দল।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে দল আশাবাদী। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিনও একই প্রত্যাশার কথা জানান।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইস্যুতে বিএনপি কঠোর বার্তা দিলেও কিছু আসনে কৌশলগত সমন্বয়ের ইঙ্গিত থাকছে। আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে—কারা দলীয় সিদ্ধান্ত মানছেন, আর কারা চূড়ান্ত বহিষ্কারের পথে যাচ্ছেন।