
নোয়াখালীর নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের ভোরের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির বিদ্রোহী সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের (কাপ-পিরিচ প্রতীক) নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি সভা চলছিল। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের ৮ থেকে ১০ জন প্রচারক কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় এবং নির্বাচনী কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে কাজী মফিজুর রহমানের তিনজন সমর্থক আহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সভা শেষ করে তিনি এলাকা ত্যাগ করার পর সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল ও বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন বাবুলের নির্দেশে যুবদল নেতা পলাশসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন তার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি। পাশাপাশি তাকে ও তার সমর্থকদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, নির্বাচনী কার্যালয়ে বড় ধরনের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর বৈঠকের সময় স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় কিছু প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।