
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা–১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, যাদের জনগণের মধ্যে কোনো অবস্থান নেই এবং যারা অতীতেও ভোট পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না—তারাই নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে আবোল-তাবোল বক্তব্য দিচ্ছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, নির্বাচন সামনে এলেই কিছু রাজনৈতিক শক্তি বুঝতে পারে যে তাদের পরাজয় অনিবার্য। তখনই তারা বিএনপি ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানকে ঠেকাতে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। তার ভাষায়, কেউ কেউ দাবি করছে—ঢাকা শহরের সব আসন তারা দখল করে নিয়েছে এবং বিএনপি একটি আসনও পাবে না।
তিনি বলেন, এসব বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। অতীতের নির্বাচনী ইতিহাসই প্রমাণ করে জনগণ কাকে ভোট দিয়েছে। যারা বিএনপির সঙ্গে ছিল তারা জামানত রক্ষা করেছে, আর যারা বিএনপির বাইরে ছিল তারা জামানত হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা শহরের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, অতীতেও রাজধানীর সব আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। তার মতে, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক শক্তি টিকে থাকতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে এমন প্রার্থীও দেখা যায় যারা শত ভোটও পায় না, অথচ তারা বিপুল ভোটে জয়ের দাবি করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণই নির্ধারণ করে কে নির্বাচিত হবে—এ কথা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, এ দেশের মানুষ সংকটকালে সব সময় সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে। দেশের ক্রান্তিকালে জনগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তিনি কোনোভাবেই জোর করে ক্ষমতায় আসেননি; বরং জনগণের সমর্থন নিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন এবং দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে যখন দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত ছিল, তখন জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে এবং তার হাত ধরেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে, বেকারত্ব বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষ মনে করছে, আবারও একটি শক্ত নেতৃত্বের প্রয়োজন, আর সেই নেতা হিসেবে তারা ইতোমধ্যে তারেক রহমানকে বেছে নিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তারেক রহমান বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার উপস্থিতিতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভিড়ই তার প্রমাণ।
ঢাকা–১৭ আসনের ভাষানটেক ও কড়াইল এলাকার অবকাঠামোগত চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজধানী শহরের মধ্যে এসব এলাকার রাস্তাঘাট, গ্যাস, পানি ও পরিচ্ছন্নতার অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। এসব এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায় এবং তারা বিশ্বাস করে—নির্বাচিত সরকার ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমেই এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব।
এ কারণেই আসন্ন নির্বাচনে জনগণ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।