
সব ধর্মাবলম্বী মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কাজ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৯ আসনের দলীয় প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র হবে সবার।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মেরাদিয়া হিন্দু পল্লীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে বলেন, একটি সমতা ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়তেই বিএনপির রাজনৈতিক সংগ্রাম।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান। তার ভাষায়, “এই বাংলাদেশ আপনারও, আমারও। এখানে আপনাকে যেমন নিরাপদ থাকতে হবে, আমাকেও তেমনি নিরাপদ থাকতে হবে। আপনার ভোটের যে দাম, আমার ভোটেরও সেই একই দাম।”
রাষ্ট্রের মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি বা এমপি হিসেবে তিনি যা পাবেন, সাধারণ মানুষও তাই পাবে। ধর্ম পালন, নিরাপত্তা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি। সবাই নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে বলেও জানান বিএনপি প্রার্থী।
হাবিবুর রশিদ হাবিব আরও বলেন, তিনি যেমন তার ধর্ম পালনে সব সুযোগ-সুবিধা চান, তেমনি অন্য ধর্মাবলম্বীরাও একই সুবিধা পাবে—এমন বাংলাদেশই বিএনপি গড়তে চায়। তার মতে, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবাই গর্ব করে বলতে পারবে—তুমিও এই দেশের মালিক, আমিও এই দেশের মালিক।
ভোটাধিকার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, চাকরি ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান হাবিব।
নিজেকে এলাকার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, জন্মের পর থেকেই তিনি এই এলাকায় বসবাস করছেন এবং ভবিষ্যতেও এখানেই থাকবেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও পারস্পরিক পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়েও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে হাবিব বলেন, বিএনপি সব জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট, যাতে মা-বোন, মুরুব্বি ও তরুণসহ সবাই নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে।
এলাকার মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও ভরসার সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণ যেকোনো সময় তার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি ও সমস্যার কথা বলতে পারবে এবং তিনিও নিয়মিত মানুষের কাছে যাবেন।