
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ১ হাজার ৭৭৪ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে মোট ১৭৯টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং ১ হাজার ৯৪১ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে ১ হাজার ৭৭৪ জনকে।
আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি আইএসপিআর জানিয়েছিল, ২৩ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ৫০৪ জন সন্দেহভাজন অপরাধীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, মাদকাসক্ত, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, চোরাকারবারি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন।
ওই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪৮টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৭৫ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ৯৫টি ককটেল, দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
আইএসপিআর আরও জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।