
ময়মনসিংহে দেশের প্রথম অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। রোববার দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার খাগাটিপাড়ায় অবস্থিত সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেনাবাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সেনাপ্রধান বলেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, খেলাধুলা চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং একজন খেলোয়াড়কে তিনি কখনো খারাপ কাজে জড়িত হতে দেখেননি। খেলাধুলার এই ইতিবাচক দিক থেকেই দেশ উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি ছিল। এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে, যেখানে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ থাকবে। বহু বছর ধরেই একটি অলিম্পিক কমপ্লেক্সের স্বপ্ন দেখা হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে আর্মি ট্রেনিং স্কুলের পাশেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের সব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছাড়াও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট এই কমপ্লেক্সে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে যৌথ সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলো অগ্রাধিকার পাবে। অন্য সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ দেশের ক্রীড়াবিদরা এখানে অনুশীলনের সুযোগ পাবেন।
ঢাকা থেকে ত্রিশালের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, শাটল ট্রেন চালু করা গেলে যাতায়াত সহজ হবে। ভবিষ্যতে এই কমপ্লেক্সকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুতে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, যেখানে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আয়োজনও সম্ভব হবে। একই সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ অলিম্পিক ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক কর্নেল কুতুব উদ্দিন খান জানান, ত্রিশাল সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রায় ১৭৩ একর জমিতে এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে মোট ৩৩টি খেলার আয়োজন করা যাবে—এর মধ্যে ২৩টি ইনডোর, ৭টি আউটডোর এবং ৩টি অ্যাকোয়াটিক গেম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রথম ধাপে একটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে একসঙ্গে ১২ হাজার ৫০০ দর্শক বসতে পারবেন। ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়দুর রহমান।