
দেশব্যাপী বিএনপির সমর্থক এবং বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের পরিবারগুলোর ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী। তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় নারী, শিশু ও বয়স্করাও রেহাই পাচ্ছে না।
রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
ইয়াসিন আলী বলেন, জামায়াত-শিবির চক্র ধর্মকে পুঁজি করে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বিএনপি সমর্থকদের ওপর প্রকাশ্যে ও গোপনে হামলা চালাচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, রামদা, ছুরি, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসব হামলা সংঘটিত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পুরো পরিবারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কুমিল্লার একটি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ইয়াসিন আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৫ দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে কুমিল্লা-১১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আব্দুল মোহাম্মদ তাহেরের ইশারায় কুমিল্লা জেলার ১৪ গ্রাম উপজেলায় জগন্নাথপুর ইউনিয়নে একটি ভয়াবহ হামলা ঘটে।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সাবেক আমির কাজী শহীদের ছেলে এবং শিবির নেতা ফরাদ ও শাকিবের নেতৃত্বে শিবিরের প্রায় দুই শতাধিক সশস্ত্র কর্মী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ১৪ গ্রাম উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ও জগন্নাথপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মিজান খানের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ইয়াসিন আলী বলেন, হামলার উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা। এ ঘটনায় মিজান খানের মা আমেনা বেগম (৮০), ছোট বোন নার্গিস বেগম (৪০), নাজমা বেগম (৫০), ভাগিনা ইফতেখার (১৭), বড় বোনের বড় ছেলে ফারান মাহমুদ (২১), সাত বছর বয়সী এক শিশু এবং ভগ্নিপতি রিপন গুরুতর আহত হন।
আহতদের কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন ইয়াসিন আলী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, সেটিকে ব্যর্থ করতেই পরাজিত শক্তিগুলো দেশজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।
তিনি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজান খানের পরিবারের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং এ ঘটনায় জড়িত সকল ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকবে।