
হলিউডের ঝলমলে আলো–ছায়ার আড়ালে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাকে ঘিরে যখন তুমুল আলোচনা ও নানা জল্পনা চলছিল, তখন দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন এই তারকা।
এক আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সিডনি সুইনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, রাজনীতি তার ক্ষেত্র নয় এবং এ বিষয়ে কথা বলার কোনো আগ্রহও তার নেই। চলমান বিতর্কের মধ্যেই তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সিডনি সুইনি জানান, তাকে প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে ‘মাগা বার্বি’ বলে সম্বোধন করা হয়। অনেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, “আমি এখানে রাজনীতি নয়, শিল্প সৃষ্টি করতে এসেছি। এসব আলোচনার কেন্দ্রে আমি থাকতে চাই না। মানুষ কেন আমাকে তাদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তা আমি জানি না। এটি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।”
নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ না করায় ইন্টারনেটে তাকে নিয়মিত ট্রলের শিকার হতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সুইনি বলেন, “আমি কখনোই বলিনি যে আমি রাজনীতি নিয়ে কথা বলব। এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে আমি থাকতে চাই না। আমি একজন অভিনয়শিল্পী হতে চেয়েছি, কারণ আমি গল্প বলতে ভালোবাসি।”
তিনি আরও বলেন, অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষের কাছে গল্প পৌঁছে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিতর্ক বা মতাদর্শিক লড়াইয়ে নিজেকে জড়ানোকে তিনি নিজের কাজের পরিসরের বাইরে মনে করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে একটি জিন্স ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে সিডনি সুইনিকে ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক শুরু হয়। সেই বিতর্ক এতটাই বিস্তৃত হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সে সময় সুইনি নীরব থাকলেও এখন তিনি মনে করছেন, তার সেই নীরবতাকে অনেকেই ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
বর্তমান সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়ে সিডনি সুইনি আবারও জানান, তিনি রাজনীতির অংশ হতে চান না। তার কাছে শিল্প, অভিনয় এবং গল্প বলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।