
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হলো। তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে করা আপিল বিভাগের লিভ টু আপিল খারিজ করে দেওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে তিনি আর অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ দেন। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও হাইকোর্টের আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকল।
আদালতে মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন। অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।
মঞ্জুরুল আহসানের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন করেন একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। শুরুতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও, অভিযোগ পর্যালোচনার পর ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তবে ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট তার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এরপর তিনি সর্বশেষ আশ্রয় হিসেবে আপিল বিভাগে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়ের করেন।
২৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় থাকা এ আবেদনটির শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণা করে লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল বিভাগে আবেদন খারিজ হওয়ায় মঞ্জুরুল আহসানের আর কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং তিনি কুমিল্লা-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন না।
এই রায়ের ফলে কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও আদালতের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবেও এই রায়কে দেখা হচ্ছে।