
প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাঈদ আল নোমান। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, হালিশহর ও খুলশী) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি ব্যানার-পোস্টারনির্ভর প্রচারের বাইরে গিয়ে সরাসরি মানুষের সঙ্গে দেখা করাকে নিজের প্রচারের মূল ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
পাড়া-মহল্লার অলিগলি, হাটবাজার কিংবা চায়ের দোকান—ভোটার যেখানে, সেখানেই হাজির হচ্ছেন তিনি। কখনো হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কখনো দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এলাকার সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা।
শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে নগরের হালিশহরের কে ব্লক এলাকা থেকে শুরু হয় তাঁর গণসংযোগ। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বাসা থেকে সাগরিকা মোড় পর্যন্ত পথজুড়ে নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘিরে রাখলেও, তিনি সুযোগ পেলেই ঢুকে পড়েন অলিগলিতে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের সমস্যার কথা লিখে রাখছেন, নিচ্ছেন নোট।
গণসংযোগে সাঈদ আল নোমান নির্বাচিত হলে স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া, পানির সংকট নিরসন এবং হিন্দুধর্মাবলম্বীদের জন্য শ্মশানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোটারদের প্রশ্নে উঠে আসছে জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়গুলো।
সাঈদ আল নোমানের বাবা আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রামের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি বিএনপির হয়ে কোতোয়ালি আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং দুই দফায় মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সাঈদ আল নোমান বলছেন, তিনি কেবল পারিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করতে চান না। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেই নিজের পথ তৈরি করতে চান।
সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, সমাজকে মানবিক রাখতে সাংস্কৃতিক চর্চা জরুরি। চট্টগ্রাম-১০ আসনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জায়গা দিন দিন কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য স্থায়ী চর্চাকেন্দ্র এবং তরুণদের জন্য শিল্প-সাহিত্যচর্চার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান।
নারীদের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শিল্পে কর্মরত নারীদের জন্য ডে-কেয়ার, নিরাপদ যাতায়াত এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা সহায়তা ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে সাঈদ আল নোমান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে স্নাতকোত্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্কুল-কলেজের মানোন্নয়ন, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সাঈদ আল নোমান বলেন, সব ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর মানুষের সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় তিনি ভূমিকা রাখতে চান। নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের দেওয়া বিশ্বাসের মর্যাদা রাখাই তাঁর অগ্রাধিকার হবে বলে জানান তিনি।