
সরকার ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত আরও ১২ জনের নাম বাতিল করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১১(৪) ধারা এবং রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর শিডিউল–১ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নামগুলো বাতিল করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া ১২ জনের মধ্যে দিনাজপুর জেলার পাঁচজন এবং চাঁদপুর জেলার সাতজন রয়েছেন। দিনাজপুর জেলার যাদের নাম গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন— তাসফিয়াহ রিফা, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. সুরুজ মিয়া, মোছা. কহিনুর এবং মোছা. সখিনা।
অন্যদিকে, চাঁদপুর জেলার বাতিলকৃত ব্যক্তিরা হলেন— মো. কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, মো. ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল এবং মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই শেষে তাদের নাম গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরও ‘জুলাই যোদ্ধা’ তালিকায় অনিয়ম ধরা পড়ায় ১২৮ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছিল। সে সময় মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত থাকার মতো অভিযোগ উঠে আসে। ধারাবাহিক সেই যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই ১২ জনের নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘জুলাই যোদ্ধা’ তালিকা চূড়ান্তভাবে স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখতে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও যদি কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সরকারি সূত্রগুলোর মতে, প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর অধিকার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।