
নোয়াখালী-৬ আসনের দশদলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে ফ্যামিলি কার্ড নেওয়ার মতো লোকই থাকবে না। সবাই স্বাবলম্বী হবে এবং কারও দয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে না। গতকাল এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, নির্বাচন এলেই ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা দেওয়া হয়। অথচ বাস্তবে এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপকারভোগীরা পান না। তার ভাষায়, বৃদ্ধ ভাতার টাকা বৃদ্ধদের হাতে পৌঁছায় না, বিধবা ভাতা যায় নেতাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে, আর ১০ টাকার চাল গরিবের বদলে দলের লাঠিয়ালদের ঘরে ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি শ্রেণি ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে গরিব রেখে তাদের ওপর নির্ভরশীল করে রাখতে চায়।
তিনি বলেন, তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ভিন্ন। দশদলীয় জোট এমন সমাজ গড়তে চায়, যেখানে কেউ ফ্যামিলি কার্ডের মুখাপেক্ষী থাকবে না। জামায়াতে ইসলামীর আমিরও সবাইকে স্বাবলম্বী করে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে হান্নান মাসউদ বলেন, নোয়াখালীতে সম্প্রতি রাজনীতি করার কারণে একজন নারীকে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ ধরনের নারীবিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে একসঙ্গে আক্রমণ করে তিনি বলেন, দুটি দল এখন একাকার হয়ে গেছে। তার ভাষায়, ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।’ তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অমানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়েই এক পক্ষ মিছিল করছে, এমনকি নিজের ভাইয়ের হত্যাকারীদের সঙ্গেও তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে।
হান্নান মাসউদ আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কোনো বিদেশি প্রভাব বা গোলামির পথে চলবে না, দেশের মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই নির্ধারণ করবে।