
গাজা, সুদান এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেবামূলক সংগঠন হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এইচসিএসবি)। যুদ্ধ ও সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে সংস্থাটি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর থেকেই স্থানীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে সেখানে ছয়টি হাসপাতালে আহত ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ, রান্না করা গরম খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এসব কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে সুদানে চলমান ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে বাস্তুচ্যুত ও অসহায় জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্থাটি। সেখানে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, খাদ্য বিতরণ এবং সংকটকবলিত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শরণার্থী ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের জন্য ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল। সংস্থাটি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, নওমুসলিমদের পুনর্বাসন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নলকূপ স্থাপন, মক্তব ও স্কুল প্রতিষ্ঠা, শীতবস্ত্র বিতরণ, রমজানের বাজার ও ঈদ উপহার বিতরণসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংস্থাটির পরিচালক নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ জানান, তাদের প্রতিটি কার্যক্রমের ছবি, ভিডিও ও সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হয়। এতে দাতা ও সাধারণ মানুষের কাছে কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, সময়-তারিখসহ নথিভুক্ত তথ্য ও ধারাবাহিক রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে সংস্থাটি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখছে।
জানা গেছে, দেশ ও বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় বাংলাদেশ ও ইউরোপ থেকে মিশর হয়ে গাজা ও সুদানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল। এ উদ্যোগের জন্য মিশরের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত, মিশরীয় রেড ক্রিসেন্ট, ইজিপশিয়ান মানবাধিকার সংগঠন, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারগণ এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞরা সংস্থাটির কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।