
দালাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে আবারও লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অবস্থান বদল করে দ্বিচারিতার পরিচয় দিচ্ছে।
৩০ জানুয়ারি শুক্রবার কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জুলাই মাসে যেসব গণমাধ্যম আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় ছিল, তারা এখন বিএনপির ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি সময় টিভি, একাত্তর টিভি ও ডিবিসির নাম উল্লেখ করে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে এসব টেলিভিশন টকশো ও সংবাদে তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অথচ বর্তমানে তারা বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক সাংবাদিক তাদের কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান, এনসিপি–সংক্রান্ত সংবাদ হেড অফিস থেকে প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয় না। অথচ সেই একই গণমাধ্যম এখন বিএনপির বন্ধু সেজেছে। তার ভাষায়, এসব মিডিয়া সুযোগ পেলেই জনগণের পিঠে ছুরি মারবে। এজন্য দালাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ ঘোষণার কথা জানান তিনি।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, একটি দল ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে নারীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে নারীদের পোশাক খুলে নেওয়ার হুমকি ও হিজাব খুলে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, চব্বিশ–পরবর্তী সময়ে এমন পরিস্থিতি এ জাতি কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এই নির্বাচন মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের বড় সুযোগ। পুলিশ, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী যেন দলনিরপেক্ষভাবে জনগণের বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। তার ভাষায়, তারা কোনো দলের নন, তারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিয়ে জাতির কাছে নিজেদের দায়িত্ব প্রমাণ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা অঞ্চল পরিচালক মাওলানা এ টি এম মাসুম, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কাউয়ুম, জাগপা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।