
নির্বাচনী মাঠে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “খুব বিপদে আছি। দিনের বেলায় কোথাও গেলে এক জায়গায় যুবদল এসে দাঁড় করায়, আরেক জায়গায় ছাত্রদল। এসে বলে—ভাই, আপনি এটা করেন না কেন?”
নিজ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা তার সঙ্গে কথা বলতে আসে, তারা প্রথমে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করলেও পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়—তাদের কেউ যুবদলের সেক্রেটারি, কেউ আবার ছাত্রদলের আহ্বায়ক। এরপর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ঢাকা-৮ আসনকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ ও নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করতে চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা যেন নিশ্চিন্তে থাকতে পারে, পুষ্টিকর খাবার পায় এবং শান্তিতে ঘুমাতে পারে—এমন পরিবেশ গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে স্কুল ও কলেজে ভর্তি বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পিজি ও বারডেম হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী ও স্বজন আসেন, কিন্তু সেখানে মানসম্মত খাবারের হোটেল কিংবা থাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রমনা ও শাহজাহানপুর এলাকার দীর্ঘদিনের পানি, বিদ্যুৎ, সড়ক ও মাদকসংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দখল হয়ে থাকা সরকারি জমি উদ্ধার করে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ এবং বয়স্কদের জন্য হাঁটা ও ব্যায়ামের উপযোগী পার্ক নির্মাণ করা হবে।
এ ছাড়া তিনি কাঁচাবাজারগুলোকে পরিকল্পিত ও আধুনিক রূপ দেওয়া, পলাশী মার্কেটের আদলে বহুতল মার্কেট নির্মাণ, নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন এবং পরিবেশদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
শেষে তিনি বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন যে তিনি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করেন। কিন্তু তিনি কী করতে চান—তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছেন বলেই এসব বিষয় প্রকাশ্যে আনছেন। তার প্রশ্ন, মানুষের কল্যাণে দেওয়া এসব প্রতিশ্রুতি কি আশাব্যঞ্জক নয়?