
দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আরও দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন নোয়াখালী জেলার সেনবাগ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ভিপি মফিজুল ইসলাম এবং একই ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম লিটন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠন পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত দুই নেতাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। দলীয় নীতি ও আদর্শের পরিপন্থি কোনো কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সারা দেশের বিভিন্ন ইউনিটের ২৭ নেতাকে বহিষ্কারের তথ্য জানায় বিএনপি। ওই বহিষ্কারের ঘটনায়ও দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠন পুনর্গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এই বহিষ্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার ও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি কমানোর বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনী সময়কে সামনে রেখে দলকে আরও সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখার কৌশল হিসেবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলীয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই বিএনপির এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।