
আসন্ন গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা নির্দেশনা কার্যকর করতে সব মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রচারণার অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন বিষয়টি স্পষ্ট করে জানায়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে যেকোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটে কোনো পক্ষের হয়ে প্রকাশ্যে বা গোপনে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
ইসির এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে শুক্রবার গণমাধ্যমকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনেকেই জেনেছেন। এখন অফিসিয়ালি সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচার সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহিত করা হবে এবং তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
এদিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বিধিনিষেধ না থাকায় আগে কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হয়েছিলেন। তবে বর্তমানে নির্বাচন কমিশন বিধিনিষেধ আরোপ করায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষের প্রচারণায় অংশ নেবেন না।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবে।