
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, মারধর, হামলা ও হুমকির অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রার্থী, কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।
ভোটারদের অভিযোগ, এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার ছেঁড়া, নির্বাচনী কর্মীদের ওপর হামলা, ভোট না দিতে হুমকি এবং ধারাবাহিক সহিংসতার কারণে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের কর্মীদের দাবি, প্রতীক বরাদ্দের আগেই গত ১১ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ প্রকাশ্যে ধানের শীষে ভোট চান। ওই দিন সমাবেশস্থল ও কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মাইক ব্যবহার করা হয়, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করা হয়। একই ধরনের অভিযোগ ওঠে ১৫ জানুয়ারি কোলা বাজারে অনুষ্ঠিত আরেকটি সভা নিয়েও।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি উল্লা গ্রামে কাপ-পিরিচ প্রতীকের কর্মী আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর বাম হাত ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে যশোরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
একই দিন রামচন্দ্রপুর নতুন বাজার থেকে ফুরসন্দি ইউনিয়নে যাওয়ার পথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আরও তিন কর্মী মারধরের শিকার হন। পরদিন ২৩ জানুয়ারি ভাটপাড়া গ্রামে কাপ-পিরিচ প্রতীকে সমর্থনের কারণে কলেজশিক্ষক সুমন কুমার দাসকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ওই রাতেই বড় ডাউটি গ্রামে আরেক কর্মীকে রামদা ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া ২৫ জানুয়ারি কাবিলপুর ও উল্লা গ্রামে একাধিক কর্মীকে মারধর এবং ২৮ জানুয়ারি নাটোপাড়া গ্রামে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কাপ-পিরিচ প্রতীকের একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সহিংসতার পেছনে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকরা জড়িত।
সহিংস ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ ভোটাররা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরাপদ পরিবেশে ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, “আমাদের কর্মীদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। বারবার প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, “এসব বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জেল্লাল হোসেন বলেন, “মারধর ও হুমকির বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কলেজশিক্ষকের ঘটনায় তিনি জানান, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিতে চাননি।