
দাঁতের ব্যথা এমন একটি সমস্যা, যা হঠাৎ করেই দৈনন্দিন জীবনকে অচল করে দিতে পারে। খাওয়া, কথা বলা কিংবা স্বাভাবিক কাজকর্ম—সবকিছুই তখন কষ্টকর হয়ে ওঠে। দাঁতের ব্যথা কেন হচ্ছে, সেটি নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের একমাত্র উপায়।
দাঁতে ক্যাভিটি বা ক্ষয়, দুর্ঘটনায় দাঁত ভেঙে যাওয়া, মাড়ির সংক্রমণ কিংবা দাঁতের ভেতরের স্নায়ু আক্রান্ত হলে ব্যথা শুরু হতে পারে। এ ছাড়া আক্কেলদাঁতের জটিলতা, পুরোনো ফিলিং নষ্ট হওয়া বা রুট ক্যানেল চিকিৎসা সঠিকভাবে না হলে দাঁতে ব্যথা দেখা দেয়।
অনুমোদিত চিকিৎসক ছাড়া ফিলিং করালে সঠিক পদ্ধতি বা উপযুক্ত ফিলিং উপকরণ ব্যবহার না হওয়ায় ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সাইনাসের সংক্রমণ, মুখের স্নায়ুরোগ, কানের রোগ, মাইগ্রেন বা এমনকি হৃদ্রোগের কারণেও দাঁতে ব্যথার অনুভূতি হতে পারে। তাই ব্যথার ধরন, তীব্রতা ও অবস্থান লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমেই মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি। লবণমিশ্রিত কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলি করলে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের কণা বের হয়ে যায় এবং সাময়িক আরাম মিলতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব না হলে বয়সভেদে প্যারাসিটামল–জাতীয় ব্যথানাশক সাময়িকভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
লোকজ উপায়ে অনেকেই লবঙ্গ গুঁড়া সামান্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে দাঁতের গর্তে ব্যবহার করেন, যা অল্প সময়ের জন্য ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলো স্থায়ী সমাধান নয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন ঝুঁকিপূর্ণ। এতে মূল সমস্যা অজানা থেকে যেতে পারে এবং জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক কখনোই নিজে নিজে সেবন করা উচিত নয়। চিকিৎসক পরামর্শ দিলে নির্ধারিত মাত্রা ও সম্পূর্ণ কোর্স মেনে চলা জরুরি।
অনেকে দাঁতের ব্যথায় গরম সেঁক দেন, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে। প্রদাহ বা ফোলা থাকলে বাইরে থেকে গালে হালকা ঠান্ডা সেঁক উপকারী। তবে সরাসরি দাঁতের ওপর বরফ লাগানো উচিত নয়।
দন্ত চিকিৎসক ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিলিং, রুট ক্যানেল চিকিৎসা, মাড়ির চিকিৎসা বা প্রয়োজনে দাঁত অপসারণের পরামর্শ দিতে পারেন। সময়মতো চিকিৎসা নিলে ব্যথা দ্রুত কমে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা ও অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়।
নিয়মিত ও সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করা, ফ্লস ব্যবহার, ছয় মাস অন্তর দাঁত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দাঁতের ব্যথা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দাঁতের যত্নের অভ্যাস গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।