
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে তাদের দলের নেতারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও তা ছেড়ে যাননি মূলত দুর্নীতি থেকে মন্ত্রণালয়গুলো রক্ষা করার স্বার্থে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে থেকে অন্তত কয়েকটি বিভাগকে দুর্নীতির হাত থেকে বাঁচানো এবং জনগণের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, সমালোচকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—তারা যদি এত সৎ হয়ে থাকেন, তাহলে কেন মন্ত্রণালয় ছাড়েননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মন্ত্রণালয় ছেড়ে যাইনি এ কারণে, অন্তত তিনটি মন্ত্রণালয় যেন বেঁচে যায়। বেঁচে যাক দুর্নীতির হাত থেকে, কিছুটা হলেও সুরক্ষা পাক এবং দেশের মানুষের মধ্যে আস্থার একটি জায়গা তৈরি হোক।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময় তাদের বিরুদ্ধে কেউ দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
শফিকুর রহমানের ভাষায়, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও জবাবদিহি বজায় রাখাই জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের লক্ষ্য ছিল। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে তারা সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ দেখাতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণ একটি সৎ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন চায়। সে লক্ষ্যে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়গুলোকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে পরিচালনা করতে পারলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব। জামায়াতে ইসলামি সেই রাজনীতিতেই বিশ্বাস করে বলে জানান তিনি।
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইফুল আলম খানসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।