
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছিল। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, লুট করা হয়েছিল দেশের সম্পদ। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনাদের কারা সহযোগিতা করেছিল, তা দেশবাসী জানে। একাত্তরের সেই ভূমিকার জন্য আগে ক্ষমা চাইতে হবে, তারপর জনগণের কাছে ভোট চাইতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের চণ্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী গণসংযোগে এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে তিনি সরাসরি নির্বাচনী প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে একাত্তরের দায় স্বীকারের আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ পায়নি। তিনি দাবি করেন, সরকারের পতনের পর বিএনপি এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেবল আয় দ্বিগুণ হওয়াকে উন্নয়ন বলা যায় কি না। আগে যেখানে ১০০ টাকা আয় হতো, এখন ২০০ টাকা আয় হলে সেটাকে উন্নয়ন বলা হচ্ছে—কিন্তু প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হবে, যখন মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির মূল চাবিকাঠি কৃষি ও কর্মসংস্থান। কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে জাতি আবারও ভুল পথে যাবে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করবে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।
তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ১৮ বছর ধরে তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। যেদিন তিনি প্রথম দেশে আসেন, সেদিন মানুষের ঢল নেমেছিল। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, সেদিন পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল।
তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার প্রথম দিনই তারেক রহমান মঞ্চে উঠে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলেন। সেই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’, যার মাধ্যমে সার ও বীজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বিএনপি মহাসচিবের দাবি, এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং জীবনমান উন্নত করা।
গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।