
প্রায় দুই দশক পর নিজ নির্বাচনি এলাকা বগুড়ায় ফিরছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তিনি বগুড়া সফরে আসছেন এবং রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটা গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রাম পরিদর্শন করবেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। জিয়া পরিবারের আদি নিবাস ‘জিয়া বাড়ি’ সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং দলীয় ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো অঞ্চল।
ইতোমধ্যে তার নির্বাচনি এলাকা বগুড়া-৬ আসনের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভার জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠজুড়ে মাইক স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাজ চলছে। মাঠের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সুমন জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে। ধুলোবালি কমাতে মাঠে পানি ছিটানো হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক জেনারেটরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
একই দিনে তারেক রহমান উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলায় নির্বাচনি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত ২৮ জানুয়ারি জনসভা হওয়ার কথা থাকলেও বিমানের টিকিট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা একদিন পিছিয়ে ২৯ জানুয়ারি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জনসভায় কয়েক লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জনসভা শেষে তারেক রহমান বগুড়ায় রাত্রিযাপন করবেন এবং পরদিন ৩০ জানুয়ারি বগুড়া-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগে অংশ নেবেন।
এ সময় তিনি গাবতলী উপজেলার পৈতৃক ভিটা বাগবাড়ী গ্রামে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগ করবেন। এরপর পুনরায় বগুড়া শহরে ফিরে রাত্রিযাপন করার কথা রয়েছে।
বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতা জানান, জনসভা ও নির্বাচনি কার্যক্রম সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সফরের শেষভাগে পৈতৃক ভিটায় তার অবস্থানকে কেন্দ্র করে গাবতলী ও সারিয়াকান্দি এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে প্রশাসন ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।